ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের প্রাঙ্গনের একপাশে দেখা যাচ্ছে রক্তের দাগ। তার চারদিকে চারটি চেয়ার বসিয়ে একটি টার্প টাঙ্গিয়ে রাখা হয়েছে। এখানেই রবিবার রাতে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয় এক তরুণকে।
খুন হওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম রাকিবুল ইসলাম। বোরহান উদ্দিন কলেজের বিএ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি।
১৫ই মার্চ রবিবার রাত নয়টার দিকে শহীদ মিনারের পাশে বন্ধুদের সাথে চা খাচ্ছিলেন রাকিব। হঠাৎ এক যুবক তাকে ডেকে আরেকদিকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে বন্ধুরা ছুটে গেলে দেখেন, রাকিব রক্তাক্ত হয়ে পড়ে আছেন।
ঘটনাটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যায়, রক্তাক্ত রাকিব পড়ে আছে রাস্তায়।
রাকিবের বন্ধু ও পুলিশ জানায়, এলাকাবাসীদের সাহায্যে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই রাত সাড়ে দশটার দিকে রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান আলাপকে জানান, রাকিব যখন শহীদ মিনারে অবস্থান করছিলেন, তখন একদল দুর্বৃত্ত তাকে আক্রমণ করে। তাকে গুলি করে ও চাপাতি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এরই মধ্যে একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
তবে হামলার কারণ নিয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হামলার “সন্দেহভাজন” একজনকে এলাকার লোকজন মিলে ধরপাকড় করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ডিএমপির রমনা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার রব্বানী হোসেন আলাপকে জানান, এই ব্যক্তিকে এলাকাবাসী ও পুলিশ মিলে আটক করে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। রাকিবের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি জানান, রাকিবকে একবার গুলি করা হয়েছে ও একাধিকবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
আটককৃত ব্যক্তির একটি ভিডিও ফেইসবুকে দেখা যাচ্ছে। যেখানে তাকে আটক করার পর জিজ্ঞেস করলে তিনি স্বীকার করেন যে তার হাতে একটি চাপাতি ছিল, যা দিয়ে তিনি রাকিবকে দুইবার আঘাত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওতে যেই ব্যক্তিকে দেখা গেছে, তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।