লাখো মানুষের চোখের জলে বিদায় নিলেন খালেদা জিয়া। জানাজার জন্য তার মরদেহবাহী কফিন যখন সংসদ ভবনের পশ্চিম প্রান্তে, তখন জনস্রোত ছাড়িয়ে যায় জাহাঙ্গীর গেট, বিজয় স্মরণি থেকে বাংলামোটর-মগবাজার পর্যন্ত।
দুপুর তিনটার দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসনের জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা।
জানাজায় অংশ নিয়েছিলেন তিন বাহিনীর প্রধানও। উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পাকিস্তানের স্পিকার, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
হাজির ছিলেন ঢাকায় দায়িত্বরত ৩২টি দেশের কূটনৈতিক মিশন ও সংস্থাপ্রধান।
জানাজার আগে তারেক রহমান সবার কাছে তার মায়ের কাছে দোয়া চান। বলেন, “উনি জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় ওনার কোন ব্যবহারে ওনার কোন কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন তাহলে মরহুমার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী “
এর আগে সকাল ৯টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় গুলশানের বাসভবন ফিরোজায়।
এ সময় তার মরদেহবাহী গাড়িটি ছিল জাতীয় পতাকায় মোড়ানো।
সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা রাখা হয় খালেদা জিয়ার মরদেহ। শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানান স্বজন ও দলীয় নেতা কর্মীরা।
পরে বেলা ১২টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে পৌঁছায় খালেদা জিয়ার মরদেহ।
সেখানে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আগতরা। জোহরের নামাজের পর হয় জানাজা।
ফিরোজায় দুপুরে মানিক মিয়া এভিনিউতে জানাজার পর তাকে দাফন করা হবে তার স্বামী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার ঘোষণা করা হয়েছে সাধারণ ছুটি। এ সময় জাতীয় পতাকা থাকবে অর্ধনমিত।