বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর প্রচারের কিছু পরেই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর আসতে শুরু করে।
বিবিসি, সিএনএন, এপি, এএফপি, রয়টার্স, আল-জাজিরা, এনডিটিভি, ডনসহ বিশ্বের প্রায় সবগুলো বড় গণমাধ্যমেই গুরুত্বের সাথে প্রচার করে বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুর খবর।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি তাদের অনলাইনে লিখেছে, ১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের অধীনে একটি বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তারপর থেকে তিনি পরিচিতি পান ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে।
পুরুষ-শাসিত রাজনৈতিক দৃশ্যপট ভেঙে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতাদের একজন হিসেবে খালেদা জিয়াকে অভিহিত করা হয়েছে বিবিসি'র রিপোর্টে।
সিএনএন খালেদা জিয়াকে 'এক প্রজন্ম ধরে শেখ হাসিনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী' বর্ণনা করে তাদের রিপোর্টে এই কথাও লিখেছে যে শেখ হাসিনা সরকার ১৮ বার তাকে বিদেশে নেয়ার আবেদন নাকচ করেছিল।
কাছাকাছি শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থা এপি। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, 'সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং এক প্রজন্ম ধরে আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বি' খালেদা জিয়া মারা গেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির সংজ্ঞা হয়ে উঠেছিল এই দুই নেত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা বলেও লিখেছে এপি।
খালেদা জিয়াকে নিয়ে রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। এরপর শেখ হাসিনার অন্তত দেড় দশকের ক্ষমতা বাণিজ্যের সাথে তার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরটিকে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রচার করেছে আল-জাজিরা। শিরোনাম ছিল, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া: ক্ষমতা ও প্রতিরোধের এক জীবন।
খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে গণতান্ত্রিক সরকারকে নেতৃত্ব দেওয়া দ্বিতীয় নারী হিসেবে উল্লেখ করেছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যমটি।
গুরুত্বের সাথে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে।
রিপোর্টে লেখা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড এবং চোখের জটিলতাসহ একাধিক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সাথে লড়াই করে হার মেনে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনও। রয়টার্স ও এএফপির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমটি খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে।