বাংলাদেশের মুক্ত আকাশের নিচে অবশেষে জন্মভূমির মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান; দেড় যুগের দীর্ঘ প্রবাস শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হয়ে উঠলো ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
লন্ডন থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে সপরিবারে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশে ফেরা নেতাকে বরণ করে নিতে ঢাকায় লাখো মানুষের ঢল। তিনশ ফিট সড়ক থেকে শুরু করে বিমানবন্দর সড়ক- সবখানেই উপচে পড়া জনসমুদ্র, স্লোগানে মুখর চারপাশ।
বিমান থেকে নেমে তিনি কিছু সময় কাটান ভিআইপি লাউঞ্জে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে যখন বাইরে আসেন, তখন তাকে বহন করার জন্য প্রস্তুত ছিল বুলেটপ্রুফ একটি বাস, পতাকার লাল-সবুজে মোড়ানো, গায়ে লেখা স্লোগান- ‘এগিয়ে চলো বাংলাদেশ’।
ওয়ান-ইলেভেনের বৈরী রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তারেক রহমান। এরপর বছর পেরিয়ে যুগ কেটেছে প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনৈতিক পরিবেশের অবসান হতে। সে সময় তার দেশে ফেরা কার্যত নিষিদ্ধ ছিল।
যে দেশে জন্ম, শৈশব, কৈশোর- সব স্মৃতি, সেই দেশে ফিরতে লেগে গেল দেড় যুগ। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে সঙ্গী স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিমানবন্দরের বাইরে আসেন তারেক রহমান। চারপাশ তখন কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়া। নেতাকর্মীদের ভিড়, উত্তেজনা আর প্রত্যাশায় অভূতপূর্ব পরিবেশ।
ঠিক সেই সময়ই ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে আসেন তারেক রহমান। সবাইকে চমকে দিয়ে খোলা লন পেরিয়ে ফুলবাগানের দিকে এগিয়ে যান তিনি।
হঠাৎ থেমে যান। পায়ের জুতা খুলে ফেলেন। সবুজ বাংলার সবুজ ঘাসে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকেন কয়েক মুহূর্ত। এরপর নিচু হয়ে মাটিতে হাত রাখেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর জন্মভূমির মাটির স্পর্শ নেন তারেক রহমান। একমুঠো মাটি তুলে হাতে মেখে দেখেন- সে মাটি ছুঁয়ে দেন আরেকজনকেও। মুহূর্তটি ছিল নীরব কিন্তু গভীর আবেগময়।
এরপর সহকর্মীদের সঙ্গে বাসে ওঠেন, কিন্তু সিটে বসেননি। সামনের দিকে দাঁড়িয়ে, হাত নেড়ে নেড়ে লাখো মানুষের ভালোবাসার জবাব দিতে দিতে রওনা হন গণসংবর্ধনার উদ্দেশ্যে।