এমএফসি, আর্টিকেল নাইনটিন ও ডিক্যাবের বিবৃতি

গণমাধ্যমের উপর হামলায় এমএফসি, আর্টিকেল নাইনটিন ও ডিক্যাবের উদ্বেগ

বাংলাদেশে সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন এমএফসি। এক বিবৃতিতে জোটটি বলেছে, সহিংসতা ও ভয়ভীতি দেখানো এসব ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।

বিবৃতিতে সাংবাদিকসহ সব গণমাধ্যমকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে এমএফসি বলেছে, ভয়মুক্ত পরিবেশে সাংবাদিকদের কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করা আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং উন্মুক্ত ও সচেতন সমাজ গঠনের জন্য অপরিহার্য।

সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের অংশীদারত্বমূলক জোট মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন। বিবৃতিতে সই করেছে কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্র এই কোয়ালিশনের সদস্য হলেও বিবৃতিতে তাদের সই নেই।

হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন। তারা বলেছে, ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতার ধারা সাংবাদিকতা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও নাগরিক মতপ্রকাশের সাথে যুক্ত মানুষের জন্য ক্রমেই অনিরাপদ পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়।

আর্টিকেল নাইনটিন বলছে, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে সংকট আরও গভীর হবে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগেই সার্বিক পরিবেশের বিশ্বাসযোগ্যতা ঝুঁকিতে পড়বে।

এদিকে আলাদা বিবৃতিতে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে হামলা, সম্পাদক নুরুল কবীরকে হেনস্থার ঘটনা উদ্বেগ জানিয়েছে কূটনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ডিক্যাব।

এক বিবৃতিতে ডিক্যাব বলেছে, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। গণমাধ্যমের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা বা প্রকাশ্যে হেনস্তার মতো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী।

ডিক্যাব বলছে, এ ঘটনা শুধু পেশাগত মর্যাদায় আঘাত নয়, বরং সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ডিক্যাব।