যৌন অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) অন্যতম আলোচিত মুখ চিফ প্রসিকিউটর করিম খান। গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করে যিনি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিলেন, সেই কৌঁসুলিকেই এবার যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্ত চলাকালে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির তদারকি সংস্থা অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজ (এএসপি) করিম খানের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হবে।

সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এএসপির ব্যুরো জানায়, জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন, বিচারিক বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং বিভিন্ন লিখিত উপস্থাপনা পর্যালোচনার পর বিষয়টি ১২৫ সদস্য রাষ্ট্রের ভোটের জন্য বিশেষ অধিবেশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এই সাময়িক বরখাস্তকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা যাবে না এবং অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে করিম খান বরাবরের মতোই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তার আইনজীবীরা বলেছেন, সিদ্ধান্তটি আইনি ভিত্তিহীন, প্রক্রিয়াগতভাবে অন্যায্য এবং পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই নেওয়া হয়েছে।

৫৬ বছর বয়সী করিম খান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন যখন তিনি গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়ে আবেদন করেন। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনায় হামাসের নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও তিনি পরোয়ানা চেয়েছিলেন।

এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক চাপ ও সমালোচনার মুখে পড়েন। করিম খানের দাবি, তার বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার হতে পারে।

আল জাজিরা জানায়, জাতিসংঘের তদন্তে এক নারী সহকারীর আনা অভিযোগের পক্ষে কিছু তথ্যভিত্তিক উপাদান পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের আইনি মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকা বিচারকদের একটি প্যানেল মনে করেছে, অভিযোগ প্রমাণের জন্য বিদ্যমান তথ্য এখনো যথেষ্ট চূড়ান্ত নয়।

গত মে মাসে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বেচ্ছায় ছুটিতে যান করিম খান। সেই সময় থেকেই তিনি আইসিসির প্রসিকিউটর দপ্তরের দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে দূরে রয়েছেন।

আইসিসির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো প্রধান কৌঁসুলিকে আদালতের তদারকি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করলো। তবে তাকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করতে হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গোপন ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে অন্তত ৬৩টি দেশের সমর্থন লাগবে।

বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত উচ্চপ্রোফাইল মামলার মধ্যেই করিম খানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তার সাময়িক বরখাস্ত আইসিসির ভাবমূর্তি ও চলমান গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর ওপর নতুন করে নজর কাড়বে।