দেশের ৪৯২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে রোগীদের জন্য চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যসেবার চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যখাত বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গণপূর্ত বিভাগ ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে আটটি উপজেলায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। এসব উপজেলা বাদ দিয়ে বাকি ৪৯২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। কোথাও বিদ্যমান ভবন সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালগুলোর শয্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবলও নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে উপজেলা পর্যায়ে রোগীদের চিকিৎসা নিতে জেলা বা রাজধানীমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে বলে আশা করছে সরকার।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে পরীক্ষামূলকভাবে স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে। এটি সফল হলে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি ঘরে ঘরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ মেডিকেল কিট বক্স সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কিটে রক্ত, প্রস্রাব ও ডায়াবেটিস পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুবিধা থাকবে।
গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে প্রতিটি হাসপাতালে একজন নারী ও একজন পুরুষ ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া দেশের শিশু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর বিভাগ এবং কুমিল্লায় ২০০ শয্যার পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি হাসপাতালে আধুনিক আইসিইউ সুবিধা থাকবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব হাসপাতালের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে নারীদের জন্য পাঁচটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল-এর পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।