ইউক্রেইন জুড়ে রুশ হামলায় অন্তত দশজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ভোরে এ হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে দনিপ্রোতে ছয়জন এবং রাজধানী কিভে চারজন নিহত হয়েছে।
এর আগে মে মাসে ইউক্রেইনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল লুহানস্কের একটি ছাত্রাবাসে ড্রোন হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার জবাবে মস্কো গত সপ্তাহে ইউক্রেইনের ওপর ‘পরিকল্পিত হামলা’ চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তবে ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইউক্রেইন।
কিভ শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জনগণকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
অন্যদিকে কিভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো বলেছেন, “শত্রু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাচ্ছে।”
হামলা নিয়ে ক্লিচকো বলেন, এই হামলায় একটি গ্যাস স্টেশন, একটি নির্মাণস্থল, বেশ কয়েকটি অ্যাপার্টমেন্ট ব্লক এবং দুটি বাড়ির কাছে আগুন লেগেছে।
তিনি জানান, শহরজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবরও পাওয়া গেছে। জাপোরিঝিয়াতে একটি শিল্প স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে।
এই হামলাগুলোর আগে ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সোমবার একটি সম্ভাব্য বড় রুশ হামলার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
রাতে দেওয়া ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা এখনো বহাল রয়েছে। বড় ধরনের হামলা হতে পারে। তারা এর প্রস্তুতি নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী বর্তমানে যেসব সরঞ্জাম ও সক্ষমতা রয়েছে, তা নিয়ে ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে।”
মে মাসে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে রাশিয়া কিভের ওপর বেশ কয়েকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি বহুতল ভবনে চালানো হামলায় তিন শিশুসহ ২৪ জন নিহত হয়।