যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি এখনই নয়: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে কোনো চুক্তি “খুব শিগগিরই” হচ্ছে  এমন কোনো দাবি করা যাবে না বলে জানিয়েছে ইরান।

সোমবার তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “আলোচনায় থাকা বেশ কিছু বিষয়ে আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছি, এটা ঠিক। কিন্তু তার মানে এই নয় যে খুব দ্রুতই কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে।”

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, সোমবারই হয়তো একটি সমঝোতা হতে পারে।

বিবিসি জানিয়েছে, আলোচনায় থাকা সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যত আলোচনার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সপ্তাহান্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে দুই পক্ষ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে। যদিও পরে তিনি বলেন, তিনি আলোচকদের “তাড়াহুড়ো না করতে” নির্দেশ দিয়েছেন।

সোমবার ভারতের দিল্লিতে সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, “গত রাতে আমরা ভেবেছিলাম কিছু খবর পেতে পারি। হয়তো আজ পাবো।”

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “এ নিয়ে খুব বেশি কিছু ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ইরানের পক্ষ থেকে উত্তর পেতে কিছুটা সময় লাগে।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে একটি গোপন স্থানে অবস্থান করছেন। যুদ্ধে প্রথম দিনে ইসরায়েলি হামলায় তার বাবা ও পূর্বসূরি নিহত হন এবং তিনি নিজেও আহত হন। ফলে তার দূতদের সঙ্গে যোগাযোগ জটিল হয়ে পড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার গতি ধীর হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত চুক্তিটি চূড়ান্ত সমাধান নয়। বরং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিধি ও সময়সূচি, জব্দকৃত ইরানি তহবিল মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মতো জটিল বিষয়গুলো পরে আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।

রুবিও বলেন, “হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে আমাদের সামনে যথেষ্ট শক্ত একটি প্রস্তাব রয়েছে।”

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা ইরান অবরুদ্ধ করে রেখেছিল।

সম্ভাব্য সমঝোতার আশায় সোমবার তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং এশিয়ার শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা যায়।

তবে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের মধ্যেই এ চুক্তি নিয়ে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ প্রকাশ্যে বলছেন, এটি ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়।

সেনেটর টেড ক্রুজ বলেন, এটি হবে “ভয়াবহ ভুল”।

সেনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার বলেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি মানে হবে “অপারেশন এপিক ফিউরির সব অর্জন বৃথা হয়ে যাওয়া।”

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও এমন কোনো চুক্তির সমালোচনা করে জানান, ইরানকে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে এই চুক্তি প্রতিষ্ঠিত করবে।

তিনি বলেন, “তাহলে যুদ্ধ শুরুই বা কেন হয়েছিল—সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।”

ট্রাম্প সমালোচকদের “পরাজিত” বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি হয় খুব গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ হবে, নতুবা কোনো চুক্তিই হবে না।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুক্তি হলেও এর প্রভাব সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে দেয়। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত দেশগুলোর ওপর হামলা চালায় এবং কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়।

এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে। ট্রাম্প বলেন, “চুক্তি সম্পূর্ণ, যাচাই ও স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত” এই অবরোধ বহাল থাকবে।

রবিবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানকে বুঝতে হবে যে তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।