আফগানিস্তানে নতুন একটি আইন বাল্যবিবাহকে কার্যত আইনি স্বীকৃতি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের দাবি, তালেবান সরকারের নতুন এই আইন মেয়েশিশু ও তরুণীদের স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহবিচ্ছেদের পথ প্রায় বন্ধ করে দিচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে জোরপূর্বক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
বিশেষ করে ১১ বছরের পর মেয়েদের শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে মনে করছেন অধিকারকর্মীরা।
একটি অনানুষ্ঠানিক হিসাব অনুযায়ী, তালেবান মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বন্ধ করার পর প্রায় ৭০ শতাংশ কিশোরী অল্প বয়সে বা জোর করে বিয়েতে বাধ্য হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মেয়ের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে।
গত সপ্তাহে অনুমোদিত তালেবান নতুন ওই আইনে বলা হয়েছে, কোনো নারী যদি বিয়ের পর দাবি করে যে তাকে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছিলো কিন্তু তার স্বামী যদি অস্বীকৃতি জানায়, তবে সেক্ষেত্রে ওই নারীর দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।
অর্থাৎ বিচ্ছেদ নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকছে না সেই নারীর কাছে।
এ ছাড়াও আইনটিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, কোনো স্বামী যদি দীর্ঘদিন সঙ্গে না থাকেন কিংবা আর্থিক সহায়তা না দেন, তারপরও বিচ্ছেদ চাইতে পারবেন না স্ত্রী।
এই আইনকে কেন্দ্র করে রাজধানী কাবুলে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন নারী অধিকার সংগঠন আইনটিকে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে “প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতা” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
একজন অধিকারকর্মী ফাতিমা বলেন, “নারীবিরোধী শত শত নির্দেশনার পর এবার তালেবান আনুষ্ঠানিক আইনের মধ্যেই বাল্যবিয়েকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।”
জাতিসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) নতুন এই আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটির মতে, এটি আফগান নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার আরও সংকুচিত করবে এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
তবে তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইসলাম ও ইসলামী শাসনব্যবস্থার বিরোধীদের বক্তব্যে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
সম্প্রতি আফগানিস্তান হিউম্যান রাইটস সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গৃহস্থালি সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতিত বেশিরভাগ নারীই বাল্যবিবাহের শিকার।
চলতি মাসে দায়কুন্দি প্রদেশে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী স্বামীর নির্যাতনে মারা যায়। পরিবারের দাবি, বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছিল।
অধিকারকর্মীদের মতে, তালেবানের নতুন আইন নারীদের স্বাধীনতা আরও সীমিত করছে এবং পুরুষতান্ত্রিক বৈষম্যকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে।