জ্বালানি সংকটের কারণে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ব্যবস্থা চালু করেছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার দিল্লি সরকার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য এই ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ সহ আরও কয়েকটি জ্বালানি সাশ্রয়ী পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে।
নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, ৯০ দিনের জন্য এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় সরকারি পর্যায়ে জ্বালানি ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেসব সরকারি কর্মচারী দূর থেকে কাজ করতে পারবেন, তারা সপ্তাহে দুই দিন বাসা থেকে কাজ করবেন। পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যেন স্বেচ্ছায় এই নিয়ম অনুসরণ করে, সেই আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণকে সপ্তাহে অন্তত একদিন ‘নো-ভেহিকল ডে’ পালন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে আগামী তিন মাস বড় ধরনের সরকারি অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে এবং এক বছর পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর স্থগিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া আগামী ছয় মাস নতুন পেট্রোল, ডিজেল, সিএনজি বা হাইব্রিড গাড়ি কেনাও বন্ধ থাকবে।
এর আগে রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, জ্বালানি আমদানিতে যে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়, তা বাঁচাতে জ্বালানি ব্যবহারে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে জোর দিতে হবে, কারণ বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে।”
উল্লেখ্য, যুদ্ধের প্রভাবে ভারতের মুদ্রা রুপির মান কমে যাওয়া ঠেকাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে সোনা ও রুপা আমদানির ওপরও শুল্ক বাড়িয়েছে।