আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংস্থাটি বলছে, দীর্ঘদিনের ইতিহাস বিকৃতি ও তথ্যগত বিচ্যুতি সংশোধন করে পাঠ্যবইয়ে “প্রকৃত ইতিহাস” তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসও নতুন পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শুক্রবার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনসিটিবি চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নতুন সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের কাজ চলছে। অতীতে পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের যে বিচ্যুতি ঘটেছে, তা বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের অংশ হিসেবে গত ৪ থেকে ৭ মে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে চার দিনব্যাপী আবাসিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে মাধ্যমিকের কাজ শেষ করে প্রাথমিক স্তরের বই পরিমার্জনের কাজ চলছে।
মাধ্যমিকের ৯৭টি এবং প্রাথমিকের ৩৬টিসহ মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের কাজে প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ যুক্ত রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা রয়েছেন। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করে মুদ্রণ প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে কয়েকটি নতুন বই যুক্ত করা হবে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন বই চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিই) বিষয়ক বইও যুক্ত করা হবে।
আইসিটি বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথাও জানান এনসিটিবি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির আইসিটি বইগুলো নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন কারিক্যুলাম প্রণয়নের কাজ চলছে। এর ফলে বইয়ের সংখ্যা কমে আসবে এবং ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বাড়বে। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
২০২৭ সালের জানুয়ারির প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা সংশোধিত, নির্ভুল ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক পাটওয়ারী।