নতুন এই ডায়নোসেরর প্রজাতি আবিস্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এক দশকেরও বেশি সময় আগে পাওয়া এক জীবাশ্ম গবেষণা করে তারা জানিয়েছেন, ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বাস করতো এই ডায়নোসর। সম্ভাব্য উচ্চতা ছিল ৮৮ ফুট। ডায়নোসরটির নাম রাখা হয়েছে, ‘নাগাটাইটান চাইয়াফুমেনসিস’। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
‘নাগাটাইটানকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় ডাইনোসর বলা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের গবেষকদের একটি দল প্রায় এক দশক আগে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের একটি পুকুরের পাশ থেকে এই জীবাশ্ম পান। সেটি বিশ্লেষণ করেই নতুন প্রজাতির এই ডাইনোসর শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে তারা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই আবিষ্কার প্রাচীন জলবায়ুর পরিবর্তন কীভাবে বিশাল ডাইনোসরের বিকাশে ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে নতুন তথ্য দিচ্ছে।
এখানে ‘নাগা’ শব্দটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার লোককথার সাপকে বোঝায়। ‘টাইটান’ এসেছে গ্রিক পুরাণ থেকে। আর ‘চাইয়াফুমেনসিস’ নামটি এসেছে থাইল্যান্ডের চাইয়াফুম প্রদেশের নাম থেকে, যেখানে জীবাশ্মগুলো পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ডাইনোসর প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বাস করত। এটি টাইরানোসরাস রেক্সেরও প্রায় ৪ কোটি বছর আগের প্রাণী এবং আকারে তার চেয়ে অনেক বড় ছিল।
‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটির প্রধান লেখক ছিলেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের থাই গবেষক থিতিউত সেথাপানিচসাকুল।
তিনি বলেন, ডাইনোসর যুগের শেষ দিকের নতুন শিলাস্তরে সাধারণত ডাইনোসরের জীবাশ্ম পাওয়া যায় না। কারণ তখন এই এলাকা ধীরে ধীরে অগভীর সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।
তাই এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাওয়া সবচেয়ে সাম্প্রতিক বড় সরোপড ডাইনোসর হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
গবেষকদের ধারণা, সে সময় পৃথিবীতে তাপমাত্রা ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেশি থাকলেও এই বিশাল তৃণভোজী প্রাণীরা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল।
গবেষকদের মতে, লম্বা গলার এই তৃণভোজী ডাইনোসরটির ওজন ছিল প্রায় ২৭ টন, যা প্রায় ৯টি পূর্ণবয়স্ক এশীয় হাতির সমান। এর দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৭ মিটার বা ৮৮ ফুট।
এক দশক আগে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের একটি পুকুরের পাশ থেকে জীবাশ্মগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে যুক্তরাজ্য ও থাইল্যান্ডের গবেষকদের যৌথ দল সেগুলো বিশ্লেষণ করে নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত থিতিউত সেথাপানিচসাকুল নিজেকে “ডাইনোসর-প্রেমী” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, এই গবেষণার মাধ্যমে ছোটবেলার একটি স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।
নাগাটাইটান হলো থাইল্যান্ডে নামকরণ করা ১৪তম ডাইনোসর।
মহাসারাখাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবাশ্মবিদ ড. সীতা মানিতকুন বলেন, থাইল্যান্ডে ডাইনোসরের জীবাশ্মের বৈচিত্র্য অনেক বেশি এবং জীবাশ্মের সংখ্যার দিক থেকে দেশটি এশিয়ায় সম্ভবত তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, নাগাটাইটান তখন পৃথিবীতে বাস করত যখন বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বাড়ছিল এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রাও বেশি ছিল।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক পল আপচার্চ বলেন, সেই সময় ডাইনোসরের সরোপড পরিবারটি অনেক বড় আকারে বিকশিত হয়েছিল। তিনি বলেন, উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে এই বিশাল প্রাণীরা কীভাবে টিকে ছিল, তা কিছুটা বিস্ময়কর।
তিনি বলেন, বড় শরীর হওয়ায় এসব প্রাণীর শরীর সহজে ঠান্ডা হওয়া কঠিন। তাই গরম পরিবেশে তারা কীভাবে মানিয়ে নিয়েছিল, সেটা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
তার মতে, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে উদ্ভিদজগতেও পরিবর্তন আসতে পারে, আর এই উদ্ভিদই ছিল বিশাল দেহের তৃণভোজী সরোপড ডাইনোসরদের প্রধান খাদ্য।