ভারতের উত্তর প্রদেশে বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও শক্তিশালী ঝড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের ত্রাণ ও উদ্ধার কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার আঘাত হানা এই প্রবল ঝড়ে বহু এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তীব্র বাতাসে ঘরের টিনের ছাদ উড়ে যায়, গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক বন্ধ হয়ে যায় এবং বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শুক্রবার ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, নতুন করে বিভিন্ন এলাকা থেকে হতাহতের খবর আসায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে পৌঁছেছে।
ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, “১১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।” আহত হয়েছেন আরও ৭২ জন।
তবে ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’ মৃতের সংখ্যা ১১৭ বলে জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বরেলি জেলায় ঝড়ের সময় একটি ভবনের টিনের ছাদ উড়ে যাওয়ার সঙ্গে এক ব্যক্তি আকাশে ছিটকে পড়েন।
পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেই ব্যক্তি ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, ভিডিওতে দেখা মানুষটি তিনিই।
আহত শ্রমিক নানহে আনসারি বলেন, ঝড়ের সময় তিনি দড়ি দিয়ে টিনের ছাদ বাঁধার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ তীব্র দমকা হাওয়ায় ছাদটি উড়ে গেলে তিনি সেটি আঁকড়ে ধরেন। এতে তিনি প্রায় ৫০ ফুট ওপরে উঠে যান এবং দূরে গিয়ে পড়ে আহত হন।
তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম আর বাঁচবো না। পরে পানিভরা একটি ভুট্টাক্ষেতে গিয়ে পড়ি। ভাগ্য ভালো, বেঁচে গেছি।”
ভারতের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে তীব্র বজ্রঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও বাড়তে থাকা তাপমাত্রার কারণেই এমন চরম আবহাওয়া বাড়ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উত্তর প্রদেশ সরকার।
(চ্যানেল নিউজ এশিয়া অবলম্বনে)