গেজেট প্রকাশের পর অনেক প্রার্থী আগের চাকরি ছেড়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু পরে যোগদানের তারিখ পরিবর্তন করে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। এর মাত্র দুই দিন আগে, ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশিত গেজেটটি বাতিল করা হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ২০এ মে ২ হাজার ২৭১ জনের সম্পূরক গেজেট প্রকাশিত হয়। তবে সেখানে আগের গেজেটে থাকা ৬৫ জনের নাম বাদ পড়ে। প্রার্থীদের দাবি, বাদ পড়া অধিকাংশের পুলিশ ও প্রশাসনিক যাচাই সম্পন্ন হয়েছিল। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। এরপরও পরস্পরবিরোধী গোয়েন্দা তথ্য ও গুজবের ভিত্তিতে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
একই ধরনের অনিশ্চয়তার কথা উঠে আসে ৪৪তম বিসিএসের ক্ষেত্রেও। যাচাইসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ বিসিএসের ২০ জন প্রার্থী গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন। তাদের মধ্যে পররাষ্ট্র ক্যাডারে মেধাতালিকায় প্রথম হওয়া একজন প্রার্থীও রয়েছেন।
অন্যদিকে, চিকিৎসকদের জন্য নেওয়া ৪৮তম বিশেষ বিসিএসে গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন ২৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে একটি মেডিকেল কলেজেরই ১৫ জন রয়েছেন।
প্রার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও নিয়োগ না পাওয়ায় তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, অপেক্ষা ও চাকরিতে যোগদানের প্রত্যাশার পরও গেজেটে নাম না আসায় তারা কার্যত কর্মজীবন শুরু করতে পারছেন না।
নির্বাচিত সরকারের ইশতেহারে ‘মেরিটোক্রেসির বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রায় ২ হাজার ৫০০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের যাচাইসংক্রান্ত জটিলতা সরকারের হস্তক্ষেপে সমাধান হয়েছে। অথচ ৪৩তম, ৪৪তম ও ৪৮তম বিসিএসের গেজেটবঞ্চিতদের বিষয়ে বর্তমান সরকারের ছয় মাস পার হলেও দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তারা ।
এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রাজনৈতিক তকমা ও নিয়োগসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন প্রার্থীরা।
তাদের প্রত্যাশা, চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে এবং তারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন